বড় পর্দায় ধীরে ধীরে নিয়মিত হওয়ার চেষ্টা করছেন সাবিলা নূর। এ বিষয়ে জানতে চাইলে হেসে অভিনেত্রীর উত্তর, ‘চেষ্টা করছি।’ তবে নিয়মিত কাজ করার তাড়নার চেয়ে সিনেমা বাছাইয়ে গল্পকেই বেশি গুরুত্ব দেন তিনি। ভালো লেগেছে ‘কানাভুলা প্যারাডক্স’ এর গল্প, তাই সিনেমাটিতে যুক্ত হয়েছেন সাবিলা।

আবারও রাজের সঙ্গে পর্দায় সাবিলা
‘কানাভুলা প্যারাডক্স’ এ আবারও রাজের সঙ্গে অভিনয় করবেন সাবিলা। তবে সহশিল্পী কে, সেটির চেয়ে তাঁর কাছে গল্প এবং পুরো দলের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ এর সময় পরিচালক তানিম নূরসহ দলের অন্যদের সঙ্গে যে বন্ধুত্ব তৈরি হয়েছিল, সেটিও নতুন কাজের ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে।
রাজকে নিয়েও সাবিলার মূল্যায়ন বেশ ইতিবাচক। তাঁর ভাষায়, রাজ ‘ব্রিলিয়ান্ট’ একজন অভিনেতা। তাঁর সঙ্গে অভিনয় করলে নিজের অভিনয়কেও নতুনভাবে চ্যালেঞ্জ করা যায় বলে মনে করেন সাবিলা।

‘রকস্টার’ নিয়ে সন্তুষ্ট সাবিলা
শাকিব খানের সঙ্গে এরই মধ্যে দুটি সিনেমায় অভিনয় করেছেন সাবিলা। ‘রকস্টার’ দর্শকের প্রত্যাশা কতটা পূরণ করেছে এমন প্রশ্নেও বাণিজ্যিক সাফল্যকে একমাত্র মাপকাঠি হিসেবে দেখছেন না তিনি।
সাবিলার কাছে একটি ভালো গল্পের অংশ হওয়া, নতুন ধরনের চরিত্রে নিজেকে আবিষ্কার করা এবং ভিন্ন অভিজ্ঞতা অর্জনও গুরুত্বপূর্ণ। ‘রকস্টার’ কে তেমনই একটি কাজ মনে করেন তিনি। বিশেষ করে সমসাময়িক পটভূমির মিউজিক্যাল সিনেমায় নিজেকে নতুনভাবে উপস্থাপনের সুযোগ পেয়েছেন বলে মনে করেন এই অভিনেত্রী।
শাকিব খানের মতো বড় তারকার বিপরীতে পরপর দুটি সিনেমায় কাজের সুযোগ পাওয়াকেও নিজের ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা হিসেবে দেখছেন সাবিলা।
অভিনয়ের পাশাপাশি সিনেমা দেখতেও ভালোবাসেন সাবিলা। বিশেষ করে হরর সিনেমার প্রতি তাঁর আগ্রহ বেশি। সম্প্রতি দেখেছেন ‘অবসেশন’ ও ‘ব্যাকরুমস’। হররপ্রেমী হওয়ায় রায়হান রাফীর ‘আন্ধার’ নিয়েও আগ্রহ রয়েছে তাঁর।
নতুন সিনেমার প্রস্তুতির অংশ হিসেবেও সিনেমা দেখছেন সাবিলা। ‘কানাভুলা প্যারাডক্স’ এর চরিত্রের প্রস্তুতির জন্য পুরোনো কিছু সিনেমা আবার দেখছেন। পাশাপাশি চরিত্রটি কীভাবে পর্দায় তুলে ধরা যায়, সেটি নিয়েও প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

আবার পড়ছেন ‘ইস্ট অব ইডেন’
অভিনয়ের বাইরে সুযোগ পেলেই ঘুরতে ভালোবাসেন সাবিলা নূর। তবে ইদানীং ব্যস্ততার কারণে খুব একটা সময় বের করতে পারেননি। ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ এর কাজের সূত্রে হংকং যাওয়ার অভিজ্ঞতা অবশ্য তাঁর কাছে বিশেষ হয়ে আছে। সেখানে একটি উৎসবে সিনেমাটি প্রদর্শিত হয়েছিল।
বাংলাদেশি প্রবাসীদের পাশাপাশি বিদেশি দর্শকদের সঙ্গে বসে নিজের সিনেমা দেখার অভিজ্ঞতাকে বিশেষ বলে মনে করেন সাবিলা। নতুন সিনেমার শুটিং শুরুর আগে সুযোগ পেলে আবারও কোথাও ঘুরতে যেতে চান তিনি। তবে গন্তব্য এখনো ঠিক করেননি।
ইংরেজি সাহিত্যের শিক্ষার্থী সাবিলার ছোটবেলা থেকেই বই পড়ার প্রতি আগ্রহ। সামনে ‘ইস্ট অব ইডেন’ অবলম্বনে সিনেমা আসছে। তাই জন স্টেইনবেকের বিখ্যাত উপন্যাসটি আবার পড়ছেন তিনি।
বইয়ের সঙ্গে সিনেমার পার্থক্যটা কেমন হয়, সেটি দেখতেই নতুন করে উপন্যাসটি পড়ছেন বলে জানিয়েছেন সাবিলা।

নাটকে ফেরার দরজা খোলা
টেলিভিশন নাটক থেকে আপাতত দূরেই আছেন সাবিলা। দুই বছরের বেশি সময় ধরে নাটকে অভিনয় করেননি তিনি। তবে নাটক একেবারে ছেড়ে দিয়েছেন, এমনটাও নয়। নতুন কিছু করার মতো ভালো গল্প পেলে ভবিষ্যতে আবারও নাটকে ফিরতে চান এই অভিনেত্রী।
ওটিটিতেও কয়েকটি কাজ নিয়ে কথা হয়েছিল তাঁর। তবে শেষ পর্যন্ত ব্যাটে-বলে মেলেনি। ‘গোলাম মামুন’ এর দ্বিতীয় কিস্তিতে কাজ করার পরিকল্পনাও ছিল। কিন্তু নানা কারণে সেটি আর এগোয়নি।
এখন বড় পর্দার কাজ নিয়েই ব্যস্ত সাবিলা। নিয়মিত হওয়ার চেয়ে ভালো গল্প ও ভিন্নধর্মী চরিত্রের সন্ধানেই তাঁর আগ্রহ বেশি।







