‘হাঙর নদী গ্রেনেড’ এর রইছ চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের মনে জায়গা করে নেওয়া অভিনেতা বিজয় চৌধুরী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে তিনি হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন বলে জানিয়েছেন তার ছেলে সাবিদ।
অভিনেতার অসুস্থতার খবর জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাবার জন্য দোয়া চেয়েছেন তার মেয়ে ফিওনা ইসলাম। এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি জানান, তার বাবা আবু আজাদ চৌধুরী (বিজয়) বর্তমানে অনেক অসুস্থ এবং হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে ভর্তি রয়েছেন।
ফিওনা ইসলামের লেখায় বাবার শারীরিক অবস্থার বিস্তারিত জানানো হয়নি। তবে দ্রুত সুস্থতার জন্য সবার কাছে দোয়ার আবেদন জানিয়েছেন তিনি। ফিওনা লেখেন, ‘আমার বাবার জন্য সবাই দোয়া করবেন, আল্লাহ যেন তাকে দ্রুত সুস্থতা দান করেন এবং সকল বিপদ-আপদ থেকে হেফাজত করেন। সকলের কাছে আন্তরিকভাবে দোয়ার আবেদন রইলো।’
বাবাকে দ্রুত সুস্থ হয়ে পরিবারের কাছে ফিরে পাওয়ার আশাও জানিয়েছেন ফিওনা। তার ভাষায়, ‘আল্লাহ যেন আমার বাবাকে সম্পূর্ণ সুস্থ করে আমাদের মাঝে ফিরিয়ে দেন। আমিন।’

রইছ চরিত্রেই পেয়েছেন পরিচিতি
বিজয় চৌধুরীর অভিনয়জীবনের সঙ্গে সবচেয়ে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’ সিনেমার রইছ চরিত্রটি। কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেনের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সিনেমাটি পরিচালনা করেন চাষী নজরুল ইসলাম।
১৯৯৭ সালে মুক্তি পাওয়া ছবিটিতে রইছ চরিত্রে অভিনয়ের সময় বিজয় চৌধুরীর বয়স ছিল মাত্র ২২ বছর। সিনেমার শেষ দৃশ্যে তার চরিত্রের আত্মত্যাগ দর্শকের মনে আলাদা আবেগ তৈরি করেছিল। সেই একটি চরিত্রই তাকে এনে দেয় ব্যাপক পরিচিতি।
তিন দশক পরও স্মরণীয় সেই চরিত্র
মুক্তির প্রায় তিন দশক পরও ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’ বাংলাদেশের দর্শকের কাছে স্মরণীয় হয়ে আছে। বিশেষ করে রইছের আত্মত্যাগের দৃশ্যটি এখনো সিনেমাটির অন্যতম আলোচিত অংশ হিসেবে মনে করা হয়।
স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে জন্ম নেওয়া এই অভিনেতার নাম রাখা হয়েছিল ‘বিজয়’। বর্তমানে তার বয়স ৫৪ বছর। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও দর্শকের কাছে তার পরিচয় এখনো অনেকটা সেই রইছকে ঘিরেই ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’ এর তরুণ যোদ্ধা রইছ।
বর্তমানে হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন এই অভিনেতার দ্রুত সুস্থতার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে সবার কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে।







