ভারত উত্তাল আরজি কর মেডিকেলের ট্রেইনি চিকিৎসক ধর্ষণ ও হত্যার প্রতিবাদে। এর মাঝেই মালয়ালম ফিল্ম জগতে ‘হেমা কমিটি’-র রিপোর্ট প্রকাশের পর থেকে একের পর এক ‘মিটু’ অভিযোগ আসতে শুরু করেছে। বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি কথা বলেছেন ‘টুয়েলভথ ফেল’ খ্যাত অভিনেতা বিক্রান্ত ম্যাসি।
একটি সাক্ষাৎকারে বিক্রান্ত বলেন, ‘দুর্ভাগ্যবশত মহিলারা আমাদের মতো সুরক্ষিত নন। আমাদের সকলের একত্রিত হওয়ার সময় এসে গিয়েছে। কোন জায়গায় খামতি থেকে যাচ্ছে, সে দিকে নজর দিতে হবে। আর শুরুটা করতে হবে নিজেকে দিয়ে।’
একই সাক্ষাৎকারে ‘হেমা কমিটি’ সম্পর্কে অভিনেতা বলেন, ‘হেমা কমিটি বা এই সংক্রান্ত কোনো বিষয়কে লঘু না করেই বলছি, মালয়ালম চলচ্চিত্র জগতে যা ঘটেছে, তাকে একটি ক্ষেত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চাই না আমি।’
তিনি মনে করেন, মহিলাদের হেনস্থার ঘটনাকে শুধুমাত্র বিনোদন দুনিয়ার মধ্যে সীমিত রাখলে চলবে না। এমনকি ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে আরও অনেক অপ্রীতিকর ঘটনা রয়েছে যা প্রকাশ্যে আনা জরুরি।
বিক্রান্ত জানান, ধর্ষণের মতো ঘৃণ্য অপরাধের জন্য ফাঁ’সির সাজাকেই সমর্থন করেন তিনি। তার ভাষ্যমতে, ‘ঘটনার গুরুত্বের উপর নির্ভর করে ফাঁসির সাজা দিতে হবে। অপ্রাপ্তবয়স্কদের উপর হওয়া অত্যাচারের ক্ষেত্রে তো এটাই একমাত্র সাজা হওয়া উচিত।’
প্রসঙ্গত, মালয়ালম ফিল্ম জগতে মহিলাদের অবস্থা নিয়ে বিচারপতি কে হেমার নেতৃত্বাধীন কমিটির রিপোর্ট সম্প্রতি প্রকাশ করেছে কেরালা সরকার। এরপর থেকেই অনেক ‘মিটু’ অভিযোগ আসা শুরু করে। বিভিন্ন অভিযোগে মুখ খুলছেন কেরালার বহু অভিনেত্রীরা।
অপরদিকে, ২০২৪ সালের ৯ আগস্ট কলকাতার আর জি কর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসকদের বিশ্রামকক্ষ থেকে এক নারী ট্রেইনি চিকিৎসকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। ময়নাতদন্তে জানা গিয়েছিল, সেই চিকিৎসককে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছিল। এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে ফুঁসে ওঠে কলকাতাবাসী। পশ্চিমবঙ্গের সীমানা পেরিয়ে এ প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়ে গোটা ভারতে। তবে এখনো এর ন্যায়বিচার পাওয়া যায়নি।